কমছে হতদরিদ্র


দারিদ্র্য কমছে। কমছে হতদরিদ্রের সংখ্যা। বিশ্বব্যাংক বলেছে, দেশে হতদরিদ্রের সংখ্যা নেমে এসেছে ১২ দশমিক নয় শতাংশে। ২০১০ সালে দেশে হতদরিদ্রের সংখ্যা ছিলো ১৮ দশমিক এক শূন্য শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শিক্ষায় লিঙ্গ সমতা ও নগদ অর্থ স্থানান্তরে উদ্ভাবনী পদ্ধতি প্রয়োগ দারিদ্র্যের হার কমানো এবং নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রেখেছে। তবে প্রতিবেদনে এও বলা হয়েছে যে, আগামীতে দেশের অর্থনীতি বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবে। প্রবাসী আয় ও ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগে অনিশ্চয়তার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে এই হার ছয় দশমিক দুই শতাংশে নেমে আসবে। সাম্প্রতিক সময়ে জিডিপির তুলনায় বেসরকারি বিনিয়োগ সর্বনি¤œ অবস্থায় রয়েছে।

দারিদ্র্য কমছে, এটা আমাদের জন্য সুসংবাদ। চরম দারিদ্র্য কবলিত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে বাংলাদেশ এক সময় সারাবিশ্বে পরিচিত ছিলো। কিন্তু এখন আর সেই দিন নেই। দারিদ্র্য কমছে, কমছে হতদরিদ্রের সংখ্যা। এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। সরকারের লক্ষ হচ্ছে অতি দ্রুত দারিদ্র্যের হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা। তবে এক্ষেত্রে রয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা। বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, প্রবৃদ্ধির বর্তমান ধারা বজায় থাকলে ২০৩০ সালে দারিদ্র্যের হার শূন্যে নামিয়ে আনা যাবে না। শূন্য দারিদ্র্যের হার লক্ষ অর্জনে আট দশমিক আট শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন। ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের গড় প্রবৃদ্ধি ছিলো পাঁচ দশমিক এক শতাংশ। এসময় প্রতি এক শতাংশ প্রবৃদ্ধির বিপরীতে এক দশমিক পাঁচ শতাংশ হতদরিদ্র কমেছে। এই হার অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালে হতদরিদ্র পাঁচ দশমিক ৩৩ শতাংশে গিয়ে ঠেকবে।

শুধু বাংলাদেশ নয়, বর্তমানে সারাবিশ্বেই চরম দারিদ্র্যে থাকা মানুষের সংখ্যা কমেছে। ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের পর বিশ্বে অসাম্য কমেছে। এই সময়ের মধ্যে যতো দেশে অসাম্য বেড়েছে, তারচেয়ে দ্বিগুণ দেশে হ্রাস পেয়েছে। চরম দারিদ্র্যে থাকা মানুষের সংখ্যা আট বছর আগের চেয়ে এখন কমেছে। দৈনিক এক ডলার ৯০ সেন্ট-এর চেয়ে কম খরচে দিন যাপন করাকে বিশ্বব্যাংকের মানদ-ে চরম দারিদ্র্য বিবেচনা করা হয়। ২০১৩ সালে বিশ্বে চরম দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আকার ছিলো ৭৬ কোটি ৭০ লাখ; যা বৈশ্বিক জনসংখ্যার দশ শতাংশের সামান্য বেশি। আগের বছর (২০১২) চরম দারিদ্র্যে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ছিলো ৮৮ কোটি ১৩ লাখ। অর্থাৎ এক বছরেই চরম দারিদ্র্যের হার কমেছে ১১ কোটি ৪৩ লাখ। বিশ্বব্যাংকের গবেষকদের মতে, ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের পর থেকে বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ অসাম্য কমেছে। সবচেয়ে শিল্পায়িত দেশগুলো এ প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে লাভবান হয়েছে। তাছাড়া, বিশ্বে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সিংহভাগ দক্ষিণ এশিয়া ও সাব সাহারান আফ্রিকায় কেন্দ্রীভূত রয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ৮৫ শতাংশের বেশি দক্ষিণ এশিয়ায় বসবাস করে। অর্থাৎ ৭৬ কোটি চরম দরিদ্র মানুষের মধ্যে ৬৫ কোটির বসবাস দক্ষিণ এশিয়াসহ অন্যান্য দেশে। দারিদ্র্যসীমার বাইরে আসা মানুষের মধ্যে সাত কোটিই পূর্ব এশিয়ার। সবমিলিয়ে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দরিদ্র বা চরম দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কমছে বাংলাদেশেও। এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। হতদরিদ্রদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের গৃহীত নানা পরিকল্পনার সুফল আসতে শুরু করায় দারিদ্র্যের এই হার কমছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞগণ। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার জন্য সামাজিক নিরাপত্তার বিভিন্ন কর্মসূচিকে আরও জোরদার করার সঙ্গে সঙ্গে এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীকেও নিজেদের ভাগ্যোন্নয়নে সচেতন হয়ে উঠতে হবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *