পরকীয়ার কারণে ভাঙ্গছে একের পর এক সুন্দর সংসার। ইদানীং পত্রিকার পাতা উল্টালেই পরকীয়ার খবর। পরকীয়ার কারণে সমাজে বাড়ছে বিবাহ বিচ্ছেদ, ঝগড়া বিবাদ খুনসহ নানা অপরাধ।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, ইদানীং বিবাহ বিচ্ছেদ আশংকাজনক হারে বাড়ছে এবং এ বিবাহ বিচ্ছেদের একটা বড় কারণ হচ্ছে পরকীয়া। বিশেষ করে বাঙ্গালি সমাজে এখন পরকীয়া আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এর কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরকীয়ার প্রসার ঘটে বেশী। এর মাধ্যমে একের সাথে অপরের হয় পরিচয়, ঘনিষ্ঠতা, প্রেম, পরকীয়া।
এ ছাড়াও স্বামী স্ত্রীর ব্যক্তিত্বের সংঘাত, ভুল বুঝাবুঝি থেকে দূরত্বের সৃষ্টি, অবহেলা, অসম বিয়ে, যৌন সম্পর্কে উদাসীনতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, লোভসহ বিভিন্ন কারণে পরকীয়া প্রেমের সুত্রপাত হয়।
পরকীয়া এমন একটি সম্পর্ক যা খুব বেশী দিন গোপন রাখা যায় না। যিনি পরকীয়ায় পড়েন তার আচরণ, চলাফেরা, কথাবার্তায় তার প্রকাশ কাছের মানুষের চোখে ধরা পড়ে।
মিসৌরি স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রফেসার অ্যালিসিয়া ওয়াকার দীর্ঘদিন যাবত পরকীয়ার উপর গবেষণা করে জানতে পারেন, বিবাহ বিচ্ছেদ যে দিন দিন বাড়ছে তার একটি বড় কারণ হচ্ছে পরকীয়া। পরকীয়ার আরেকটি কারণ হচ্ছে টিভি চ্যানেলগুলো।
বিশেষ করে বাঙ্গালির প্রিয় চ্যানেল স্টার জলসা ও জি বাংলাসহ হিন্দী চ্যানেলগুলোতে প্রচারিত ধারাবাহিকগুলোতে পরকীয়ার ছড়াছড়ি। যেন এটা একটা স্বাভাবিক ব্যাপার। পরকীয়ার কারণে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সেই পরিবারের সন্তানেরা।
মা বাবার ডিভোর্স সন্তানদের উপর নেমে আসে এক ধরণের বিভিষিকা। লেখাপড়া হয় বিঘ্নিত, চাপ পড়ে মনের ওপর, মানষিক বিষন্নতা দেখা দেয়। কখন বুঝবেন বা জানবেন আপনার সাথী পরকীয়ায় মত্ত।
যখন দেখবেন আপনার সাথীর ফোনে ঘনঘন আসা বার্তা আসা-যাওয়া করছে, ফোনে ধীরে ধীরে কথা বলছে, বেশীরভাগ সময় অন লাইনে থাকা, ফোনটা কোন সময়ই হাতছাড়া করছে না এবং বাথরুমে যাওয়ার সময়ও সেটা হাতে নিয়ে ঢুকছে। হঠাত করে আপনার প্রতি অবহেলা বা অধিক গুরুত্ব, ভালবাসার ভান করা, ঘন ঘন দুজনের ঘনিষ্ট ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া।
দুজনের প্রেম ভালবাসার কথা অযাচিতভাবে অন্যকে বলা, কাজ থেকে দেরীতে বাড়ী ফেরা, ছুটির দিনেও কাজের কথা বলে বেরিয়ে পড়া, বাড়ীতে না খাওয়া, অফিসের কাজে দুদিনের জন্য বাইরে যাচ্ছি বলে নিখোঁজ হওয়া।
পোষাকের পরিবর্তন, নিজেকে সুন্দর ও স্মার্ট রুপে উপস্থাপন। সংসারের প্রতি উদাসীনতা। সন্তান সন্ততি ও সাথীর প্রতি অমনোযোগ। ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন সাইকোলজি’তে প্রকাশিত নতুন এক গবেষণায় দেখা যায়, পরকীয়া কিভাবে স্বামী স্ত্রীর ভবিষ্যত সম্পর্ককে প্রভাবিত করে।
স্বামী বা স্ত্রী কেউ একজন যদি আরেক জনের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে তৃতীয় অন্যজনের সাথে পরকীয়ায় জড়ায় তবে ভবিষ্যতে সাথীর মানষিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি, আত্মবিশ্বাস হ্রাস, আত্ম সম্মান হ্রাস করতে পারে।
তাছাড়া এটি পরিবারকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশার সৃষ্টি করে। আরেক ধরণের পরকীয়া প্রেম রয়েছে যাকে সিরিয়াল প্রতারক বলা হয়। এ ক্ষেত্রে প্রতারক তার স্বামী বা স্ত্রী থাকা সত্বেও একের পর এক পরকীয়ায় জড়িত হয়।
স্কট কে নপ এবং ডেনভার বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের কয়েকজন সহযোগীদের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, যারা সঙ্গীর সাথে প্রতারণা করে অন্যের সাথে পরকীয়া করছে তারা তাদের পরবর্তী সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রতারণার সম্ভাবনা তিনগুণ বেশী।
বিগত কয়দিনের পরকীয়া সম্পর্কিত দৈনিকগুলোর খবর :
# দেবরকে বিয়ে করতে ভাবীর অনশন। # স্বামী হত্যায় তার স্ত্রীর ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন। # পরকীয়ার জেরে রিকশাচালককে হত্যা। # প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে উধাও আইনজীবি। # পরকীয়া জেনে যাওয়ায় স্ত্রীকে হত্যা। # স্ত্রীর সাথে পরকীয়া সন্দেহে বন্ধুকে হত্যা।

(বাংলা সংবাদের সম্পাদকীয় নীতিমালার সঙ্গে লেখকের মতামতের মিল নাও থাকতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির আইনগত, মতামত বা বিশ্লেষণের দায়ভার সম্পূর্ণরূপে লেখকের, বাংলা সংবাদ কর্তৃপক্ষের নয়। লেখকের নিজস্ব মতামতের কোনো প্রকার দায়ভার বাংলা সংবাদ নেবে না।)