ডেস্ক রিপোর্ট :: হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও ঘোষণা ছাড়াই অস্ত্র নিয়ে অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। উল্লেখ্য, এর আগে খেলনা পিস্তল নিয়ে পলাশ নামে এক যাত্রী বিমানে উঠে যাত্রীদের জিম্মি করে বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। খেলনা পিস্তল হোক আর বৈধ পিস্তল হোক, বিমানবন্দরের একাধিক স্ক্যানার মেশিনের ফাঁক গলে তা কিভাবে বিমান পর্যন্ত পৌঁছাল- এ প্রশ্নও তোলা হয়।
এ ঘটনার পরপরই চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের বৈধ পিস্তল স্ক্যানার মেশিনে ধরা না পড়ায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছিল। অবশ্য ১১ মার্চ স্ক্যানার মেশিনে ধরা পড়ার পর ঘোষণা ছাড়া অস্ত্র নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশের অভিযোগে একজন আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার হন।
বিমানবন্দরের মতো একটি স্পর্শকাতর এলাকায় একের পর এক অস্ত্র নিয়ে অনুপ্রবেশের ঘটনা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্টদের আরও কঠোর ও সচেতন হওয়া উচিত, তা বলাই বাহুল্য। শুধু অস্ত্র নয়; বিমানবন্দরে যে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ করতে না পারলে তা দেশের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দেখা দেবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। ভুলে গেলে চলবে না, ইতিপূর্বে বিমানবন্দরের অপ্রতুল নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশের অভিযোগে বাংলাদেশ থেকে কোনো পণ্য নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল অস্ট্রেলিয়াসহ আরও কিছু বিদেশি এয়ারলাইন্স ও এয়ার ফ্রেইট। এক পর্যায়ে ব্রিটিশ এভিয়েশন টিমের পক্ষ থেকে বিমানবন্দরের দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এ প্রেক্ষিতে সরকার ব্রিটিশ এভিয়েশন ফোর্সের আদলে এয়ারফোর্স, র্যাব, এপিবিএন ও পুলিশের চৌকস কর্মকর্তাদের নিয়ে এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি ফোর্স নামে বিশেষ বাহিনী গঠন করলেও এ ধরনের ঘটনা কেন বন্ধ হচ্ছে না, এ এক প্রশ্ন বটে!
হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মান অবশ্যই আন্তর্জাতিক পর্যায়ের হওয়া উচিত। আন্তর্জাতিক একটি বিমানবন্দরের দুর্বল ও দুর্নীতিপ্রবণ ব্যবস্থাপনা শুধু দেশে নয়, বহির্বিশ্বেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। দুশ্চিন্তার বিষয় হল, শুধু অবৈধ অনুপ্রবেশ নয়, হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বিরাজ করছে, যা কিছুতেই রোধ করা যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে সরকারেরও তেমন জোরালো কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। সরকার আন্তরিক হলে পরিস্থিতির পরিবর্তন না হওয়ার কোনো কারণ নেই। সব ধরনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতিমুক্ত হয়ে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সত্যিকারের আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরের মর্যাদা ও সুখ্যাতি লাভ করুক, এটাই প্রত্যাশা।