বড়লেখায় বাংলাদেশীকে গুলি করে মারলো বিএসএফ


মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আব্দুর রূপ (৩৭) নামের এক বাংলাদেশী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ভারত থেকে অবৈধ পথে মহিষ আনতে গিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের উত্তর ডিমাই এলাকার ওপারে তিনি বিএসএফের গুলিতে মারা যান। নিহত আব্দুর রূপ বড়লেখা সদর ইউনিয়নের বিওসি কেছরিগুল (উত্তর) গ্রামের সাজ্জাদ আলীর ছেলে। আব্দুর রূপ তিন সন্তানের জনক। শুক্রবার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানা গেছে, বড়লেখা উপজেলার বোবারতল বিজিবি ক্যাম্পের আওতাধীন সীমান্তের ১৩৮২ নম্বর মেইন পিলারের সাব পিলার ১ এস এলাকায় কাটাতারের বেড়া অতিক্রম করে শুক্রবার দিবাগত রাতে ১০-১৫ জনের বাংলাদেশী গরু ও মহিষ পাচারকারী একটি দল ভারতে অনুপ্রবেশ করে। এসময় দায়িত্বরত বিএসফের সদস্যরা চোরাকারবারীদের লক্ষ করে গুলি ছুড়ে। বিএসএফের গুলিতে আহত অন্যরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থলেই মারা যান পাচারকারী দলের সদস্য আব্দুর রূপ। বিএসএফ তার লাশ উদ্ধার করে ভারতে নিয়ে যায়। এ সংবাদ লেখার সময় লাশের সুরতহাল শেষে ভারতের করিমগঞ্জ জেলার পাতাইরকান্দি থানায় নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বড়লেখা সদর ইউনিয়নের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন শনিবার বিকেলে বলেন, ‘সে আমার ইউনিয়নের বাসিন্দা। শনিবার সকালে তাঁর পরিবারের লোকজন আমার বাড়িতে এসে জানান, সে ভারতে গিয়েছিল। সেখানে গুলি হয়েছে। কিন্তু সে ফেরেনি। পরবর্তী সময় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে সে গুলিতে মারা গেছে। এরপরে বিভিন্নভাবে খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারি সেখানে তাঁর সুরতহাল হয়েছে। লাশ করিমগঞ্জ জেলার পাতাইরকান্দি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।\’

বিয়ানীবাজার বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল ফয়জুর রহমান পিএসসি  বলেন, ‘বড়লেখা সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার ২০০ গজ ভারতের ভেতরে একজন মারা গেছেন এমন খবর পাওয়া গেছে। তবে তাঁর নাম পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’